
তৃণমূলকে পাত্তাই দিচ্ছে না বিজেপি!
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেল রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি। ২১ জুলাই উপলক্ষে কলকাতাগামী তৃণমূল কর্মীদের জন্য হাতে জল ও বিস্কুট নিয়ে স্টেশনে হাজির হন বিজেপি কর্মীরা। যদিও তাঁদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও একজন তৃণমূল কর্মীরও দেখা মেলেনি।
দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি তেজনারায়ণ পান্ডে বলেন, রাজনৈতিক সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবেই তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “একুশে জুলাই উপলক্ষে কলকাতাগামী তৃণমূল কর্মীদের জল ও বিস্কুট দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু স্টেশন কিংবা ট্রেনে একজন তৃণমূল কর্মীকেও দেখতে পাইনি।”
একই সঙ্গে অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে বিজেপির কর্মসূচি থাকলে কর্মীদের বাধা দেওয়া হতো, এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতার বিপরীতে রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা দিতেই এদিনের উদ্যোগ বলে দাবি তাঁর।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে বুলডোজার দিয়ে সরানো হল বিশ্ববাংলা লোগো!
দেড় লক্ষ শ্রমিকের মুখে হাসি ফেরালো রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর
অন্যদিকে, একই দিনে দুর্গাপুর স্টেশনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে আসে। কংগ্রেসের অভিযোগ, স্টেশনে প্রবেশের মুখে তাঁদের কর্মীদের বাধা দেয় বিজেপি। জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর দাবি, প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা শেষ পর্যন্ত স্টেশনে প্রবেশ করেন। ট্রেনের মধ্যেও তাঁদের কর্মীদের হেনস্থার অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, দেবেশ চক্রবর্তীর অভিযোগ, শক্তিগড় এলাকায় জামুড়িয়া থেকে আসা কংগ্রেসের দুটি বাস এবং একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় দলের একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছে কংগ্রেস।
তবে কংগ্রেসের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। ঘটনার জেরে একুশে জুলাইয়ের সকাল থেকেই দুর্গাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে।

