
দুর্গাপুর দর্পণ, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল পুরসভায় বিরোধী দলনেতার জন্য অবশেষে পৃথক কক্ষ বরাদ্দ করা হল। দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় চার বছর পর সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, আনুষ্ঠানিকভাবে সেই কক্ষের দায়িত্বভার পেলেন আসানসোল পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী তথা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর চৈতালী তিওয়ারি।
২০২২ সালে বর্তমান পুরবোর্ড গঠনের পর থেকেই বিজেপির একমাত্র নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে চৈতালী তিওয়ারিকে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর জন্য কোনও পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে পুরসভার বিভিন্ন প্রশাসনিক ও জনস্বার্থ সংক্রান্ত কাজ পরিচালনায় নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল বলে বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
অবশেষে চার বছর পর সেই দাবি পূরণ হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত কক্ষটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন চৈতালী তিওয়ারি। এই উপলক্ষে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।
চৈতালী তিওয়ারি জানান, বিরোধী দলনেতার জন্য পৃথক কক্ষ থাকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অভিযোগ আরও সুষ্ঠুভাবে শোনা এবং প্রশাসনের কাছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে। গত চার বছর ধরে বার বার চিঠি দিয়েও ফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাজ্যে পালাবদলের পরে ঘর পাওয়া গেল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কক্ষ বিরোধী দলের সাংগঠনিক ও জনমুখী কাজকে আরও গতিশীল করবে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিরোধী দলনেতার জন্য পৃথক কক্ষ বরাদ্দ করা স্থানীয় গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর ফলে পুরসভার কাজকর্মে বিরোধী পক্ষের অংশগ্রহণ ও নজরদারি আরও কার্যকর হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
আসানসোল পুরসভার বর্তমান বোর্ডে বিজেপির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে চৈতালী তিওয়ারির ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চার বছর পর বিরোধী দলনেতার জন্য পৃথক কক্ষ বরাদ্দ হওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় মহলেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

