WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now
চলছে অস্ত্রোপচার

কলকাতার বাইরে পূর্ব ভারতে প্রথম!

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১২ আগস্ট: বয়স ৭২। অ্যাপেন্ডিক্সে তৈরি হয়েছিল বড় আকারের টিউমার। ধীরে ধীরে সেই টিউমারের কারণে অন্ত্রে তৈরি হয়েছিল গুরুতর প্রতিবন্ধকতা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে উঠেছিল ওই প্রবীণ মহিলার।

কলকাতার বাইরে পূর্ব ভারতে এই প্রথম পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে প্রয়োগ করা হলো অত্যন্ত জটিল HIPEC (Heated Intraperitoneal Chemotherapy) থেরাপি। ওই প্রবীণ মহিলার পেট থেকে অ্যাপেন্ডিক্সের বড় টিউমার অপসারণ এবং ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করে চিকিৎসায় অসামান্য সাফল্য অর্জন করলেন মিশন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

অ্যাপেন্ডিক্স ক্যান্সার অনেক সময় পেটের ভিতরে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যায়। এই রোগীর ক্ষেত্রেও ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসার প্রথম পর্বে ডাঃ দেবাশিস চ্যাটার্জি অস্ত্রোপচার ও কয়েক ধাপে কেমোথেরাপির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেন।

পরবর্তী ধাপে রোগীর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ডাঃ অর্ণব চক্রবর্তী। তিনি জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেটের দৃশ্যমান পুরো ক্যান্সার অংশটি নিখুঁতভাবে অপসারণ করেন (Complete Cytoreduction/ CC-0)। এরপর পেটের গহ্বরে সরাসরি উত্তপ্ত কেমোথেরাপি অর্থাৎ HIPEC প্রয়োগ করা হয়। এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এটি সরাসরি পেটের ভেতরের অদৃশ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ক্যান্সার কোষগুলোকে গভীর থেকে ধ্বংস করে দেয়। পেটের ভিতরে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন- জটিল গাইনোকোলজিক্যাল চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: মিশন হাসপাতালে সফল রোবোটিক হিস্টেরেক্টমি

শ্বাসনালীতে ঢুকে গেল ধারালো যন্ত্রাংশ, অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীকে সুস্থ করল মিশন হাসপাতাল

সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, এত জটিল চিকিৎসার পরও রোগীর শরীরে কোনো বিরূপ প্রভাব বা বড় জটিলতা দেখা যায়নি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দ্রুত সুস্থ হয়ে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় হাসিমুখে বাড়ি ফিরে গেছেন ওই বৃদ্ধা।

এই সাফল্য শুধু একজন রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, দুর্গাপুর ও আশপাশের এলাকার ক্যান্সার রোগীদের জন্যও এটি নতুন আশার বার্তা। কারণ এতদিন এই ধরনের অত্যাধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকেই কলকাতা বা অন্যান্য বড় শহরের উপর নির্ভর করতে হত।

রোবোটিক সার্জারি, ফ্রোজেন সেকশন, ইমিউনোথেরাপি এবং পার্সোনালাইজড মেডিসিন-সহ নানা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পর এবার সফল HIPEC থেরাপির মাধ্যমে দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতাল বিশ্বমানের পূর্ণাঙ্গ অনকোলজি সেন্টার হিসেবে নিজস্ব অবস্থান আরও মজবুত করল।