WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের চাঞ্চল্যকর নাবালিকা গণধ*র্ষ*ণ মামলায় গ্রেফতার চার অভিযুক্তকে সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত তাদের জামিনের আবেদন খারিজ করে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আরও এক যুবকের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছে বুদবুদের বাসিন্দা তরুণী শিমরণ তামাং, শেখ আজহারউদ্দীন, সুবীর দাস এবং সংশ্লিষ্ট হোটেলের ম্যানেজার রাজকুমার দে। এদিন আদালত চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের আদালতে নিয়ে আসা হলে সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দরকার হলে উত্তরপ্রদেশের মতো করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন, লাভের আশায় কিছু হোটেল নাবালক-নাবালিকাদের পরিচয় যাচাই না করেই ঘর ভাড়া দিচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই-এর সঙ্গে তিনি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত তরুণী শিমরণের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল নির্যাতিতার। সেই সূত্রেই অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, শনিবার দুপুরে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে অষ্টম শ্রেণির ওই নাবালিকাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করেছিলেন। অভিযোগ, একটি গাড়িতে করে তাকে সিটি সেন্টারের অম্বুজা উপনগরীর কাছে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

রোগী আটকে রাখার অভিযোগে দুর্গাপুরের হাসপাতালে তাণ্ডব 

নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ এক পরিচিত টোটোচালক অসুস্থ অবস্থায় তাঁর মেয়েকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। জানা যায়, অভিযুক্তরা তাকে জাতীয় সড়কের ধারে ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার তদন্তে একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শিমরণ তামাং কোনও প্রলোভন বা অর্থের বিনিময়ে নাবালিকাকে ফাঁদে ফেলেছিল কি না, এর আগে এমন ঘটনার সঙ্গে তার কোনও যোগ ছিল কি না, অভিযুক্ত যুবকদের অতীতেও একই ধরনের অপরাধের ইতিহাস রয়েছে কি না—সব দিকই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তদন্তকারীরা হোটেলের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন। পরিচয়পত্র যাচাই না করেই কীভাবে ঘর দেওয়া হল, এর পেছনে মোটা টাকার আর্থিক লেনদেন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হোটেল মালিকের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পলাতক তৃতীয় যুবকের খোঁজেও বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তার বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।