দুর্গাপুর দর্পণ ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর: নিয়োগের সময় টেট ছিল না। তৎকালীন নিয়োগবিধি মেনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে ঢুকেছিলেন তাঁরা। তারপরে পেরিয়ে গিয়েছে ২০-২৫ বছর। এতদিন শিক্ষকতা করার পর এখন নতুন করে টেটের শর্তে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকে গণ ইমেইল পাঠালেন শিক্ষকেরা।
তাঁদের দাবি একটাই—টেট বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে যাঁরা বৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের চাকরির সুরক্ষা দিতে শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯-এ সংশোধন করা হোক। সংগঠনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা তাঁদের নিয়োগের সময়কার নিয়ম মেনেই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। তখন শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা বা টেটের বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরে টেটের শর্ত চালু হয়। এখন সেই শর্ত অতীতের নিয়োগের ক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়ায় দীর্ঘদিনের শিক্ষকরা সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি সংগঠনের। ২০-২৫ বছর শিক্ষকতা করার পরও কি তাঁদের অভিজ্ঞতার কোনও মূল্য থাকবে না?—এই প্রশ্নই সামনে আনছে সংগঠন।
তবে সংগঠন স্পষ্ট করেছে, শিক্ষার মান কমানোর কোনও দাবি তারা করছে না। কর্মরত শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে না। তাদের আপত্তি মূলত পরে চালু হওয়া একটি শর্ত অতীতের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও সংগঠনের অবস্থান স্পষ্ট। তাদের বক্তব্য, আদালত প্রচলিত আইন অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। আইন পরিবর্তনের ক্ষমতা সংসদের। ২০১৭ সালে বিপুল সংখ্যক অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক কর্মরত থাকার সময় শিক্ষার অধিকার আইন সংশোধন করে তাঁদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একইভাবে এবারও আইন সংশোধনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছে সংগঠন।
এই কর্মসূচির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, টেট উত্তীর্ণ শিক্ষকরাও এতে সামিল হয়েছেন। তাঁদের নিজেদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা না থাকলেও দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা পৃথকভাবে আবেদন পাঠিয়েছেন বলে সংগঠনের দাবি। সংগঠনের সভাপতি সন্দীপ ঘোষের বক্তব্য, বিষয়টি শুধু একটি গোষ্ঠীর শিক্ষকের চাকরির প্রশ্ন নয়। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে আসা সহকর্মীদের মর্যাদা ও সুরক্ষার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এই কর্মসূচীর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে সংগঠনসূত্রে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর স্মারকে দুর্গাপুরের চিপ! SEMICON India-তে বড় স্বীকৃতি NIT দুর্গাপুরের



