WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুরে ট্রাফিক পুলিশের কড়া বার্তা

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কড়া অবস্থান নিল দুর্গাপুর ট্রাফিক পুলিশ। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার মহকুমা আদালত চত্বরে বিশেষ ট্রাফিক সচেতনতামূলক ও নজরদারি অভিযান চালানো হয়। আদালত চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। এর ফলে আদালতে আসা সাধারণ মানুষ, আইনজীবী এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহনের চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল।

এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ট্রাফিক পুলিশ এদিন একদিকে যেমন নো-পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলির উপর নজরদারি চালায়, অন্যদিকে গাড়ির মালিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সচেতন করার উদ্যোগও নেয়। নো-পার্কিং জোনে রাখা গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করে মালিকদের ফোন করা হয় এবং দ্রুত গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অনেক গাড়ির মালিক ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিজেদের গাড়ি সরিয়ে নেন।

শুধু গাড়ির মালিকদেরই নয়, আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ, চালক এবং পথচারীদেরও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার বার্তা দেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। মাইকিং ও সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে জানানো হয়, নো-পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখলে তা শুধু আইনভঙ্গই নয়, অন্যদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটায়। তাই নির্দিষ্ট পার্কিং স্থান ব্যবহার করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে বুলডোজার দিয়ে সরানো হল বিশ্ববাংলা লোগো!

দেড় লক্ষ শ্রমিকের মুখে হাসি ফেরালো রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর

ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমানে মানুষকে সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে যদি কেউ নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রেখে যান, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে মোটরযান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী গাড়ি টো করে সরিয়ে নেওয়ার মতো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে।

পুলিশের দাবি, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর, আদালত, হাসপাতাল এবং ব্যস্ত এলাকাগুলিতে যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে, সেজন্য আগামী দিনেও এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালানো হবে।

ট্রাফিক পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন আদালতে আসা বহু মানুষ। তাঁদের মতে, নো-পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার প্রবণতা কমলে আদালত চত্বরের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষেরও চলাচল আরও সহজ হবে।