WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: বহু দশক ধরে একটি বেসরকারি কারখানার সামনে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা শ্রমিক সংগঠনগুলির কার্যালয় অবশেষে বুলডোজারের সামনে গুঁড়িয়ে গেল। মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের এবিএল কারখানার গেটে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ) আইএনটিটিইউসি, সিটু এবং আইএনটিইউসি-র কার্যালয় ভেঙে দেয়। অভিযানের সময় এলাকায় মোতায়েন ছিল বিপুল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

এডিডিএ সূত্রের দাবি, সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে এবিএল এলাকায় ওই কার্যালয়গুলি পরিচালিত হচ্ছিল। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কারখানার সামনে সরকারি জমিতে থাকা শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় সরানোর জন্য আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যালয়গুলি সরানো না হওয়ায় এদিন উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

বুলডোজার চলতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সিটু ও আইএনটিইউসি-র নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর এই অফিসগুলি শুধু সংগঠনের কেন্দ্রই নয়, শ্রমিকদের মিলনস্থল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। টিফিনের সময়ে শ্রমিকরা এখানে এসে বিশ্রাম নিতেন, নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেন এবং শ্রমিক স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনের পরিকল্পনা করতেন।

বৃদ্ধদের আশ্রয় গড়তে ১০ কাঠা জমি দান দুর্গাপুরের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর

গোপালপুরে দুই তৃণমূল নেতাকে মারধর করে ডিম ছুড়ল বিক্ষুব্ধ জনতা!

এবিএল আইএনটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনকে দুর্বল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় ৫০ বছরের পুরনো এই কার্যালয়।  সিটু নেতা সিদ্ধার্থ বসুর অভিযোগ, ১৯৭৯ সাল থেকে চলা তাঁদের কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হলেও অন্য কয়েকটি কারখানার সামনে থাকা বিএমএসের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, অতীতে কারখানার সামনে শ্রমিক সংগঠনের নামে সরকারি জমি দখল করে নানা অনিয়ম চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন এখন সেই দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে। সব শ্রমিক সংগঠনের কার্য্যালয়ই ভেঙে দেবে প্রশাসন।