
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: দেশের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন বহু বছর। অবসরের পরও থেমে থাকেননি তাঁর সেবার মানসিকতা। এবার অসহায় বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নিজের মূল্যবান জমি দান করলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী সত্যপ্রিয় জোয়ারদার। তাঁর এই উদ্যোগ শুধু একটি জমি দানের ঘটনা নয়, বরং মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত, যা সমাজকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।
শুক্রবার কুড়ুরিয়া ডাঙা মৌজায় অবস্থিত নিজের প্রায় ১০ কাঠা জমি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন সত্যপ্রিয় জোয়ারদার। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই জমিতেই নির্মিত হবে একটি বৃদ্ধাবাস, যেখানে আশ্রয় পাবেন পরিবারহীন, অসহায় এবং অবহেলিত প্রবীণ মানুষ।
বর্তমান সমাজে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বহু মানুষ জীবনের শেষ অধ্যায়ে সবচেয়ে বেশি লড়াই করেন একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কারও সন্তান দূরে, কারও আবার আপনজন থাকলেও নেই যত্নের স্পর্শ। সেই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে নিজের সম্পত্তির একটি অংশ সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই প্রাক্তন সেনাকর্মী।
জমি দানের পর আবেগঘন কণ্ঠে সত্যপ্রিয় জোয়ারদার বলেন, “বৃদ্ধ বয়সে অনেকেই থাকা-খাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়েন। যদি এই জমিতে একটি বৃদ্ধাবাস তৈরি হয়, তাহলে বহু প্রবীণ মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে জীবনের বাকি সময়টা কাটাতে পারবেন। তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আমার এই দান সার্থক হবে।” এই কয়েকটি বাক্যেই ধরা পড়ে তাঁর ভাবনার গভীরতা। দেশরক্ষার দায়িত্ব শেষ হলেও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা যে শেষ হয়নি, তা তাঁর কাজই প্রমাণ করে দিয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, জমিটি বৃদ্ধাবাস নির্মাণের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এখানে শুধু থাকার ব্যবস্থাই নয়, প্রবীণদের স্বাস্থ্যপরিষেবা, নিয়মিত পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার এবং সামাজিক ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
গোপালপুরে দুই তৃণমূল নেতাকে মারধর করে ডিম ছুড়ল বিক্ষুব্ধ জনতা!
দুর্গাপুরে কারখানার গেটে আন্দোলন তুলতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি
দুর্গাপুরে অটোচালকদের সতর্ক করল ট্রাফিক পুলিশ, নিয়ম ভাঙলেই কড়া ব্যবস্থা
সমাজবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের নিরাপত্তা ও যত্ন একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এমন সময়ে সত্যপ্রিয় জোয়ারদারের মতো মানুষের উদ্যোগ শুধু একটি অবকাঠামো গড়ার পথই খুলে দেয় না, সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধেরও শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেয়।
একজন মানুষের সদিচ্ছা কত মানুষের জীবনে আলো এনে দিতে পারে, তারই জীবন্ত উদাহরণ এই উদ্যোগ। কুড়ুরিয়া ডাঙার সেই ১০ কাঠা জমিতে গড়ে ওঠা বৃদ্ধাবাস একদিন হয়ে উঠবে অসংখ্য প্রবীণ মানুষের শেষ আশ্রয়, শেষ ভরসা এবং শেষ বয়সের শান্তির ঠিকানা।
দুর্গাপুরের বুকে এই মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রবীণদের প্রতি সম্মানের যে বার্তা সত্যপ্রিয় জোয়ারদার রেখে গেলেন, তা আগামী দিনেও বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।

