
র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের শপথ
দুর্গাপুর দর্পণ, ১৮ আগস্ট, দুর্গাপুর: কলেজ মানে শুধু পড়াশোনা নয়, নতুন মানুষকে চেনা, বন্ধুত্ব তৈরি করা, স্বপ্ন দেখা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। সেই কলেজজীবন যেন ভয় বা অপমানের অভিজ্ঞতায় থমকে না যায়, সেই বার্তাই উঠে এল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় কলেজ অফ ফার্মাসি অ্যান্ড অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সেস-এর অ্যান্টি-র্যাগিং দিবস ও সপ্তাহ ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে।
এম. এল. শ্রফ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল— ‘র্যাগিং-এর বিরুদ্ধে যুবসমাজ – একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।’ র্যাগিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে একে অপরের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ। ছিলেন কলেজের চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ ড. সমীর কুমার সামন্ত, মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শদাতা শ্রেয়া ব্যানার্জি, পিজি স্টুডেন্টস অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের ইন-চার্জ অধ্যাপক সুব্রত রায়, রেজিস্ট্রার সাগর সেনগুপ্ত এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাম্পাস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অরূপ কুমার ঘোষ। শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মী, বর্তমান পড়ুয়া এবং সদ্য ভর্তি হওয়া ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রথা মেনে একটি চারাগাছে জল দেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ছোট্ট চারাগাছটির পরিচর্যার সঙ্গে শিক্ষাজীবনেরও যেন একটা সুন্দর যোগসূত্র তৈরি হয়—যত্ন পেলে যেমন একটি গাছ বেড়ে ওঠে, তেমনই যত্ন, সম্মান ও নিরাপত্তার পরিবেশে একজন শিক্ষার্থীও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ ড. সমীর কুমার সামন্ত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ এবং ইতিবাচক সম্পর্কের উপর জোর দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন যে, প্রত্যেক পড়ুয়ার মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে কলেজ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর লক্ষ্য, প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে কলেজ জীবন কাটাতে পারে।
সিনিয়র ও জুনিয়রদের সম্পর্ক নিয়েও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর কথায়, র্যাগিং কোনওভাবেই কোনও প্রথা, নিয়ম বা কলেজ সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। বরং সিনিয়ররা জুনিয়রদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের পথ দেখাবেন এবং নতুন পড়ুয়ারাও যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষও একই বার্তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তোলার দায়িত্ব সকলের, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজেকে নিরাপদ, সম্মানিত এবং প্রয়োজনের সময়ে সমর্থিত মনে করবে।
জুনিয়র-সিনিয়রদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। কলেজকে দ্বিতীয় বাড়ির মতো আপন করে নিয়ে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ করার জন্যও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। একইসঙ্গে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার বার্তা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শুধু বক্তব্যেই থেমে থাকেনি সচেতনতার উদ্যোগ। মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শদাতা শ্রেয়া ব্যানার্জির পরিচালনায় বিশেষ Psychological Counselling Session-এ র্যাগিংয়ের মানসিক ও আবেগগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। পড়ুয়াদের নিজের কথা খোলাখুলি বলার, প্রয়োজন হলে সাহায্য চাওয়ার এবং সহপাঠীদের সঙ্গে সুস্থ ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়।
আরও পড়ুন- সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল নজির গড়ল বিসিআরইসি


