
আসুন, একটু তলিয়ে ভাবি
দুর্গাপুর দর্পণ ডেস্ক: দুর্ঘটনা রুখতে রেলগেটে উড়ালপুল কতটা জরুরী মুর্শিদাবাদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের তা প্রমাণ করে দিল।
মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ-গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিংয়ে স্কুলভ্যানের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ৪ জন খুদে পড়ুয়া এবং এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনা কার্যত গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা ছিল। তাই স্কুলভ্যানটি নিশ্চিন্তে রেললাইন পেরোচ্ছিল। কিন্তু স্কুল ভ্যান রেললাইনের উপরে উঠতেই আচমকা চলে আসে ট্রেন। ট্রেনের চালক আপতকালীন ব্রেক কষেও ট্রেন দাঁড় করাতে পারেননি। ট্রেনের ধাক্কায় স্কুলভ্যানটি তালগোল পাকিয়ে যায়।
ঘটনার পর গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মৃত ও জখমদের পরিবারের জন্য রেল ও রাজ্য সরকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু প্রাণগুলি কি আর ফিরে আসবে?
দুর্ঘটনা এড়াতে সব লেভেল ক্রসিং তুলে দিয়ে সেখানে উড়ালপুল বা আন্ডারপাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। উড়ালপুল হলে মুর্শিদাবাদের মতো দুর্ঘটনার হার শূন্যে নেমে আসবে। যানজটের সমস্যা মিটবে। অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল ও জরুরি পরিষেবার গাড়ি দ্রুত চলাচল করতে পারবে। তাছাড়া, ট্রেনের গতিও বাড়বে।
মুর্শিদাবাদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিল, প্রতিটি লেভেল ক্রসিং সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গা। যেখানে সম্ভব, সেখানে দ্রুত উড়ালপুল বা আন্ডারপাস নির্মাণই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে উড়ালপুল বা আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই কাজ চলেছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। কেন? জানা গিয়েছে, এর অন্যতম প্রধান কারণ হল বিগত তৃণমূল সরকারের জমি নীতি।
আরও পড়ুন:
সরকারি জমিতে ক্লাব, গেরুয়া রং করেও রক্ষা হল না! গুঁড়িয়ে দিল এডিডিএ-র বুলডোজার
বৃদ্ধদের আশ্রয় গড়তে ১০ কাঠা জমি দান দুর্গাপুরের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর
প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে গেলে উড়ালপুলের অ্যাপ্রোচ রোডের জন্য জমি দরকার। বিদ্যুৎ, জল ও অন্যান্য পরিষেবা সরানোর জন্য বিকল্প জায়গা দরকার। কিছু জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের বিষয় থাকে। সে জন্যও অতিরিক্ত জায়গা দরকার। তাই, গত এক দশকে রেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বহুবার জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্যের খবর সামনে এসেছে।
জমির অভাবে গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে আটকে রয়েছে বহু রেল প্রকল্প। আশার কথা, রাজ্যের নতুন সরকার বিগত তৃণমূল সরকারের মতো উন্নয়নের প্রশ্নে দিশাহীন নয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে বৈঠক করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে।
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে মোট ৫৩৮টি উড়ালপুল ও আন্ডারপাসের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সে জন্য জমি সহ রাজ্য সরকারের তরফে যে যে সহযোগিতা দরকার, তা রেলকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সবাই চাইছেন, সেই সব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হোক। রেলগেটের লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা রোধ করতে এছাড়া কোনও বিকল্প নেই।

