
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এক গভীর দায়বদ্ধতা। সেই মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে জাতীয় চিকিৎসক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক আন্তরিক ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (BCREC)। প্রতি বছর ১ জুলাই ভারতে দিনটি পালিত হয়। এই দিনটি প্রখ্যাত চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, ভারতরত্ন এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত ড. বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন ও মৃত্যু দিন। এদিনের অনুষ্ঠানে ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কর্তৃপক্ষ একদিকে যেমন স্মরণ করলেন ড. বিধানচন্দ্র রায়-কে, তেমনই সমাজে চিকিৎসকদের নিরলস অবদানের প্রতিও জানালেন গভীর শ্রদ্ধা।
দিনের সূচনা হয় কলেজের ‘ম্যানেজমেন্ট হাউস’-এ ড. বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিতে এবং ‘বিধান উদ্যান’-এ তাঁর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে। এই শ্রদ্ধার্ঘ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সদস্য, সোসাইটির অন্তর্গত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মী এবং পড়ুয়ারা। সকলেই ড. বিধানচন্দ্র রায়ের মানবসেবার আদর্শকে অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সোসাইটির সহ-সভাপতি মিতা মিত্র, সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভট্টাচার্য এবং সহকারী সম্পাদক রীতা সিং। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন BCREC-এর সহকারী অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে. এম. হোসেন, ড. বি. সি. রায় অ্যাকাডেমি অফ প্রফেশনাল কোর্সেস-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাজীব রায়, ড. বি. সি. রায় কলেজ অফ ফার্মাসি অ্যান্ড অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সেস-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সামন্ত এবং ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অরিজিৎ কুমার ব্যানার্জি।
হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের MBA কোর্স এবার দুর্গাপুরের BCREC-তে
এদিনের অনুষ্ঠানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মিশন হাসপাতালের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন মেডিকেল ডিরেক্টর ড. পার্থ পাল, অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ড. অরিত্র রায় এবং বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল।
বিসিআরইসি-তে আল্ট্রাটেকের ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ উদ্বোধন
দিনটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। BCREC-এর এনএসএস (NSS) ইউনিট এবং মিশন হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শিবিরে সোসাইটির অধীনস্থ চারটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক ও অন্যান্য কর্মীরা অংশ নেন। প্রায় ১৫০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং তাঁরা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পান।
সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল নজির গড়ল বিসিআরইসি
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজমুখী উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। সেই ভাবনা থেকেই চিকিৎসা পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ড. বিধানচন্দ্র রায়ের সেবামূলক জীবনদর্শনকে সামনে রেখে এবং চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে এদিনের অনুষ্ঠান শেষ হলেও, মানবসেবা ও সুস্থ সমাজ গঠনের যে বার্তা তুলে ধরা হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য।
চাকরি পেতে কোন দক্ষতা সবচেয়ে জরুরি? BCREC-এর HR Conclave-এ মিলল দিশা

