বৌমার ‘সমকামী’ সম্পর্কের প্রতিবাদ করাতেই কি চরম পরিণতির শিকার শাশুড়ি?

একদিন বাড়িতে তাদের দু’জনকে ‘অন্তরঙ্গ’ অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি প্রশান্তের। আপত্তি জানান তিনি। আপত্তি জানান তাঁর মা-ও। 

——————————————-

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১০ নভেম্বর ২০২৩: মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়ারের সঙ্গে বাড়ির বধূর ‘অন্তরঙ্গ’ সম্পর্ক! মেনে না নেওয়ায় শাশুড়িকে লাগাতার নির্যাতন। তার জেরে মৃত্যু শাশুড়ির। এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলার দুর্গাপুরের বেনাচিতির দেবীনগরে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পৌঢ়ার নাম অনিমা রায় (৬৮)। অভিযুক্ত বধূর স্বামী প্রশান্ত রায়ের অভিযোগ, ২০২১ সালে তাঁর স্ত্রী সুনন্দার সঙ্গে সিভিক ভলেন্টিয়ার অমৃতা সামন্তের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একদিন বাড়িতে তাদের দু’জনকে ‘অন্তরঙ্গ’ অবস্থায় দেখতে পান বলে তাঁর দাবি। স্ত্রীর কাছে আপত্তি জানান প্রশান্ত। আপত্তি জানান, শাশুড়ি অনিমা রায়ও।

অভিযোগ, তারপর থেকেই শাশুড়ির ওপর মানসিক অত্যাচার শুরু করে বৌমা এবং ওই মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়ার। সঙ্গ দেয় সুনন্দার বাবা জয়দেব তা ও দাদা অনিমেষ তা। প্রশান্তর আরও অভিযোগ, তাঁদের বাড়ির দিকেও নজর ছিল অমৃতার। অশান্তি চরমে পৌঁছায় ২৯ অক্টোবর। সেদিন রাতে বাড়িতে অনিমাকে  সুনন্দা এবং অমৃতা মিলে মারধর করে বলে অভিযোগ।

প্রশান্তর দাবি, সেই সময় শালা অনিমেষ ও শশুর জয়দেব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল। প্রশান্ত স্ত্রীকে আটকাতে গেলে স্ত্রী সামান্য চোট পায়। অমৃতা তখন সুনন্দাকে নিয়ে যায় মহিলা থানায়। সেখানে প্রশান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে সুনন্দা। পরদিন অসুস্থ মাকে প্রশান্ত দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি।

ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে শেষ পর্যন্ত বিধাননগরের এক বেসরকারি হাসপাতালে মাকে ভর্তি করেন তাঁরা। সেখানেই গতকাল বিকেলে মৃত্যু হয় অনিমার। অভিযুক্তদের বিরূদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রশান্ত এবং তাঁরা দাদা শ্রীকান্ত ও বোন চম্পা সামন্ত। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)।

Leave a Comment

error: Content is protected !!
mission hospital advt