সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়ারা কেন আইসক্রিম বিক্রেতা? দীর্ঘ গরমের ছুটিতে কী বাড়বে স্কুলছুটের সংখ্যা?

সনাতন গড়াই, দুর্গাপুর দর্পণ, ১৫ মে ২০২৪: সাইকেল ‘ক্যারিয়ারে’ আইসক্রিমের বাক্স। জলবালা, দুধ বালা, চিঁড়ে বালা আইসক্রিম আর পেপসি সম্ভার নিয়ে দাবদাহকে মাথায় নিয়ে ছুটে চলেছে শেখ সাইফুদ্দিন, শেখ ইমতিয়াজ, রফিকুলরা। ওদের বাবারা দিনমজুর। সামান্য টাকায় দিন গুজরান হয়। তাই বড়দের একটু সাহায্য় করতেই বীরভূমের গ্রাম থেকে চলে এসেছে ওরা।

সাইকেলের ক্যারিয়ারে আইক্রিমের রঙিন বাক্স। ভেঁপু বাজিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এ গ্রাম থেকে সেই গ্রামে। ভেঁপুর আওয়াজে ছুটে আসে খুদেরা। কখনও আবার মা মাসিরাও যোগ দেয় সেই দলে। সকলের নজর বাক্সে থাকা জলবালা, দুধ বালা, চিঁড়ে বালা আইসক্রিম আর পেপসির ওপর। প্রচণ্ড দাবদাহে ঠাণ্ডা পরশ দিয়ে যায় সাইফুদ্দিনরা।

সাইফুদ্দিনরা সপ্তম শ্রেনীর পড়ুয়া। বাড়ি বীরভূমের ইলামবাজারের কাছে ছোট্ট কোনও গ্রামে। বাবা দিনমজুর । সামান্য রোজগারে দিন চলে যায়। থেকে যায় অভাব। তাই তো স্কুলে গরমের ছুটি পড়তেই বীরভূমের ইলামবাজারের ছোট চক, সুগর ও জয়দেব সংলগ্ন এলাকার বহু পড়ুয়ারা প্রায় দশ কিলোমিটার অতিক্রম করে কাঁকসার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পরে প্রতিদিন। জানা গিয়েছে, বীরভূমের ইলামবাজার সংলগ্ন ছোট গ্রামগুলির বেশির ভাগ মানুষ দিন মজুরি করে দিন গুজরান করেন। করোনা পরিস্থিতির পর থেকে অনেকের অবনতি হয়েছে অবস্থার। স্কুল চালু থাকলে মিড-ডে মিলে দুপুরের খাওয়ার খায় এরা। কিন্তু এখন তো গরমের ছুটি। গ্রীষ্মের আইসক্রিমের চাহিদা বেড়েছে।

(Dr. BC Roy Engineering College & Group of institutions । পূর্ব ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যোগাযোগ- 933927844, 9832131164, 9932245570, 9434250472) 

তাই, সকাল থেকেই জয়দেবের আইসক্রিমের কারখানার সামনে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে খুদে খুদে পড়ুয়ারা। সাইকেলের পিছনে রঙিন আইসক্রিমের বাক্স। নিজেদের লোভ সম্বরণ করে ছোট ছোট হাতে জলবালা, দুধ বালা, চিঁড়ে বালা আইসক্রিম আর পেপসি সহ নানান সব আইসক্রিমে সাজিয়ে নিচ্ছে বাক্স। তারপর বাই বাই চলছে সাইকেল। গন্তব্য কাঁকসার বিদবিহার, বনকাটি, গোপালপুরের গ্রাম। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করে ওদেরই বয়সি খুদেরা। তাদের হাতে আইসক্রিম, পেপসি তুলে দিয়ে পরিতৃপ্তির হাসি হাসে শেখ সাইফুদ্দিন, শেখ ইমতিয়াজ, রফিকুলরা। সন্ধ্যা নামার আগেই দল বেঁধে বাড়ি ফেরা। শেখ সাইফুদ্দিনের কথায়, স্কুল ছুটি তাই বন্ধুদের সাথে আইসক্রিম বিক্রি করছি। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লাভ হয়। সেই টাকা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিই। একটু সাহায্য় হয় ওদের। ঠিক কোন ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে এই সব পড়ুয়াদের জন্য? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।(বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)।

Leave a Comment

error: Content is protected !!
mission hospital advt