ভয়াবহ! পশ্চিমবঙ্গ থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেল ৪০ উদ্ভিদ এবং ২০ প্রজাতির মাছ

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৫ আগস্ট ২০২৩: এই মুহূর্তে পৃথিবী ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির (Sixth Extinction) মুখোমুখি। অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের সঙ্গে ভয়াবহ বিপন্নতার সম্মুখীন মানুষও। ২০১৫ সালে ‘সায়েন্স অ্যাডভ্যান্স’ নামক একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা পত্রে উঠে আসে এমন ভয়াবহ আশঙ্কার কথা। গবেষণাপত্রটির মূল লেখক মেক্সিকোর অটোনোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেরাডো সেবাল্লোস। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে ৫ বার গণ বিলুপ্তি ঘটেছে। শেষ গণ বিলুপ্তিতে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছিল ডাইনোসররা।

সম্প্রতি অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে পশ্চিম বর্ধমানের (Paschim Bardhaman) দুর্গাপুরের (Durgapur) Dr. B. C. Roy College of Pharmacy and Allied Health Sciences-এ (BCRCP) জীববৈচিত্র (Biodiversity) বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উদ্যোক্তা BCRCP এবং আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বোস বিজ্ঞান কেন্দ্র, দুর্গাপুর। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের (Paschim Banga Vigyan Mancha) জেলা সভাপতি ডঃ শ্রীকান্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি। এর আগেও ৫বার গণ বিলুপ্তি ঘটেছে এই পৃথিবীতে। তফাত একটাই। এর আগের পাঁচটি গণ বিলুপ্তি ঘটেছিল প্রাকৃতিক কারণে। আর, এবারেরটা ঘটতে চলেছে মনুষ্যজাতির কৃতকর্মের জন্য!’’তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকারের জীববৈচিত্র বিষয়ক বোর্ডের (Biodiversity Board) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে ৪০ উদ্ভিদ এবং ২০ প্রজাতির মাছের বিলুপ্তি (extinct) ঘটেছে। প্রতি বছর প্রায় ২৭ হাজার জীবের প্রাজাতির অবলুপ্তি ঘটছে এই পৃথিবী থেকে। সমগ্র মানবজাতিকে এ’বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আর্জি জানান তিনি। বিজ্ঞান মঞ্চের তরফে অরুণ কিরণ চট্টোপাধ্যায়, রামপ্রণয় গাঙ্গুলী সহ অন্যান্যরা এবং কলেজের ফ্যাকাল্টি ও পড়ুয়ারা ওই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক ঋতুপর্ণা চাকি।এর আগে, কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ সমীর কুমার সামন্ত তাঁর স্বাগত ভাষণে বলেন, ‘‘নিবিড় বনসৃজন প্রকল্পের মাধ্যমেই একমাত্র বিশ্ব উষ্ণায়ণ রোধ করা সম্ভব এবং তবেই ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি রোধ করা সম্ভব হবে।’’ ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেদিন জীববৈচিত্র বিষয়ে কলেজ পড়ুয়াদের নিয়ে কোলাজ প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের আয়োজন করা হয়। শুভদীপ কুন্ডু, সৌভিক কুমার হাজরা, অনুরাগ দে সম্মিলিতভাবে কোলাজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এছাড়া, সুরজিৎ পান্ডা ও সুরজিৎ পাঁজা যৌথভাবে দ্বিতীয় এবং রীতিশা অধিকারী, পিয়ালী বেবার্তা ও রিন্টু পাল সম্মিলিতভাবে তৃতীয় হন। (বিশেষ বিশেষ ভিডিও দেখতে DURGAPUR DARPAN ইউটিউব চ্যানেলটিও সাবস্ক্রাইব করুন)।

Leave a Comment

error: Content is protected !!
mission hospital advt